রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

নারীবাদীদের পথিকৃৎ পৃথিবীর প্রথম মানবীঃ লিলিথ

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন পৃথিবীর প্রথম মানবী লিলিথ। শুনলে চমকে ওঠার মতো ব্যাপার! তাই না? কারণ আমাদের এই ধারণা বদ্ধমূল যে পৃথিবীর প্রথম মানবী ইভ; কেননা আমরা জানি ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। ইভ হচ্ছে এডামের স্ত্রী, যাকে ঘুমন্ত এডামের বুকের পাঁজর থেকে তৈরি করা হয়েছে অনুগত হিসেবে। তাহলে খুব সরলভাবে একটি প্রশ্ন আসে, ‘লিলিথ কে?’ লিলিথকে প্রথম পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর একটি খোদাই করা সিরীয় লিপিতে, যেখানে লেখা ছিল, ‘হে অন্ধকারের উড়ন্ত অশুভ আত্মা, দূর হয়ে যা এই মুহূর্তে, হে লিলিথ!’ তাছাড়া ইহুদি মাইথলজি, ‘বুক অব জেনেসিস’ যেখানে বলা হয়েছে, (1:27) “So God created man in his own image, in the image of God created he him; male and female created he them.” অর্থাৎ নর ও নারীকে একই সাথে সৃষ্টি করার কথা উল্লেখিত আছে ইহুদি ধর্মগ্রন্থে। আর ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের আদিরূপ হচ্ছে ইহুদি ধর্ম এটা আমরা প্রায় সকলেই জানি।
হিব্রু ভাষায় লিলিথ শব্দের অর্থ হচ্ছে রাত্রি বা রাত্রির নারী বা অপদেবতা। সুমেরীয় ভাষায় লিলিথ অর্থ হাওয়া বা শ্বাস বা বায়ুর উপাদান । হিব্রুতে এর অর্থ আত্মা বা আত্মা-সম্বলিত প্রাণী।। কিন্তু পুরাণে তাকে উপস্থাপন করা হয় অন্ধকারের পিশাচ রূপে। যার কাজ দানবসঙ্গম ও নবজাতক শিশুকে চুরি করে ভক্ষণ। ব্যবিলনীয় গ্রন্থে এমনও বলা আছে যে, 'কোনো পুরুষ যদি একা রাতে ঘুমায়, তাহলে সে লিলিথের ফাঁদে পড়তে পারে!' বলা হতো পুরুষের সাথে মিলিত হবার মাধ্যমে লিলিথ আরো শয়তানের জন্ম দেয়, কেননা লিলিথকে কল্পনা করা হয় অনিয়ন্ত্রিত যৌনতার প্রতীক হিসেবে।
অথচ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আজ আমাদের সম্মুখে তুলে ধরছে লিলিথের অন্য আর এক রহস্যময় পরিচয়। ৯ম-১০ম শতাব্দীর দিকে ‘এলফাবেট অফ বেন সিরা’-তে মূলত লেখা হয় লিলিথের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হবার করুণ উপাখ্যান। জেনেসিস রহব্বাহ-র একটি মিদ্রাশ অনুযায়ী, সৃষ্টির পরপরই লিলিথের সাথে এডামের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করা এডাম লিলিথকে বোঝাতে চায় সঙ্গমকালে তার জায়গা উপরে নয়, নীচে। লিলিথ তা মানতে অস্বীকার করে। যে শ্রেষ্ঠতার দাবি এডাম করে এসেছে, তা লিলিথ উড়িয়ে দেয় এক নিমেষে। তার পক্ষে সে যুক্তিও স্থাপন করে। যেহেতু একই মাটি থেকে একই উপায়ে তাদের তৈরী করা হয়েছে, সেহেতু এডাম নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করতে পারে না, পারে না তার ওপর কর্তৃত্ব করতে। ফলে কলহ চরমে পৌঁছায় এবং এক পর্যায়ে স্বর্গে থাকার ইচ্ছা চলে যায় লিলিথের। স্বেচ্ছায় তখন স্বর্গ থেকে মর্তে নামে লিলিথ!
মর্তে এসে লিলিথ মূলত দানবদের সাথে স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন শুরু করে। পরে এডাম স্রষ্টার কাছে গিয়ে লিলিথের বিরুদ্ধে নালিশ করে এবং বলে--'এমন সঙ্গিনী তাকে কেন দেয়া হলো, যে স্বর্গ ছেড়ে পালিয়ে গেছে?' লিলিথের ওপর ক্ষুব্ধ ঈশ্বর তখন তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ফেরেশতা পাঠান। এই তিন ফেরেশতা হলো ‘সেনয়’, ‘সেনসেনয়’ এবং ‘সেমানগেলফ’ (যাদের নাম পরবর্তিতে তাবিজে লিখে বাঁধা হত নবজাত শিশুদের গলায়, কল্পিত লিলিথের কবল থেকে তাদের রক্ষা করতে)। ফেরেশতারা স্রষ্টার বার্তা নিয়ে যায় লিলিথের উদ্দেশে। যদি সে ফিরে আসে, মেনে নেয় এডামের কর্তৃত্ব, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যদি সে প্রত্যাখ্যান করে, তাকে সম্মুখীন হতে হবে শাস্তির। প্রতিদিন তাকে প্রত্যক্ষ করতে হবে তার এক শ সন্তানের মৃত্যু!
ফেরেশতারা লিলিথকে মিশরের এক সমুদ্র তীরে খুঁজে পায়। তাদের সাথে তাকে ফিরে যেতে বলে। কিন্তু লিলিথ বলে, সে আর ফিরে যাবে না। এরপর তাকে শোনানো হয় ফিরে না যাওয়ার শাস্তি। শুনে লিলিথ বলে, “My friends, I know God only created me to weaken infants when they are eight days old. From the day a child is born until the eighth day, I have dominion over the child, and from the eighth day onward I have no dominion over him if he is a boy, but if a girl, I rule over her twelve days.” (আমি জানি ঈশ্বর আমাকে তৈরী করেছেন কেবলই নবজাতকের প্রতি দুর্বল করার জন্য। তাও আমার অধিকার বজায় থাকবে কেবল আটদিন যদি শিশুপুত্র হয় আর কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে তা বারোদিন।) লিলিথের বিশ্বাস ছিল ঈশ্বর এডামের পক্ষ নেবেন, যেহেতু লিলিথকে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন এডামকে সঙ্গ দেয়ার জন্য।
বর্তমান সমাজে আজকের নারীদের ভেতরেও আমরা একটু লক্ষ করলেই দেখবো, লিলিথপন্থি নারীদের আজও অপবাদ, অভিশাপ অবমাননার শিকার হতে হয়। ধারণা করা হয় বাইবেল থেকে লিলিথের অধ্যায় বাদ দেয়ার কারণ হচ্ছে তখনকার চার্চের রীতিনীতির বিরুদ্ধাচারণ। মোটাদাগে লিলিথের আচরণ প্রায় সকল ধর্মীয় রীতিনীতির সাথেই সাংঘর্ষিক। কেননা সকল ধর্মগ্রন্থগুলো একতরফা পুরুষতন্ত্রের তবেদারি করে, বলে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যে তার কাজ সন্তান প্রতিপালন এবং ঘরের নিকৃষ্ট কাজ ও পুরুষের যৌনতৃষ্ণা মেটানো। নারী যে মানুষ কিংবা তার কোন স্বাধীনসত্তা থাকা ও দাবি করা সমাজে অপরাধের সামিল। ফলত নারী শক্তির অবমাননা শুধু উন্নয়নের গতিই শিথিল করে না, দাম্পত্য জীবনও হয়ে পড়ে জড়বদ্ধ গতানুগতিক।
'লিলিথকে কেন্দ্র করে রবার্ট ব্রাউনিং এর একটি কবিতা আছে, যেখানে মৃত্যুহুমকিতে হাওয়া বা ইভ বলেছে যে, আদমকে সে আসলে ভালবাসেনি, কিন্তু লিলিথ উল্টোটা জানায়। লিলিথ ভালোবাসতেই চেয়েছিল আদমকে, কিন্তু আদম চেয়েছিল লিলিথের আনুগত্য ও বশ্যতা। কারণ তার কাছে ভালোবাসার চাইতে যৌন-আকাঙ্ক্ষাই ছিল বড় । কোনও কোনও ইহুদি মিথে দেখা গেছে, নারী-সম্ভোগের আগে আদম তার নারীবিহীন নিঃসঙ্গ জীবনে পশু-সঙ্গম করতে অভ্যস্ত ছিল । এই প্রবৃত্তি ইস্রায়েলি রাখাল-বালকদের মধ্যে সেসময় যথেষ্ট প্রচলিত ছিল । সম্ভবত এই মিথে তারই প্রভাব পড়ে থাকবে ।' [অধ্যাপক উত্তম দত্তের প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে]
এই স্বীকারোক্তি থেকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের জড়বদ্ধতা খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়, অনুমান করা যায় নারীর সামাজিক অবস্থান। তথাপি একশ্রেণির নারীকে আমরা সমাজে দেখতে পাই, যারা মূলত পুরুষতন্ত্রকে মনে করে নিয়তি, ঈশ্বরের হুকুম; তারা এই জড়বদ্ধতাকে মেনে নিয়ে যাপনে অভ্যস্ত। যদি এই শ্রেণির নারী পুরুষতন্ত্রের পক্ষ নিয়ে রাজপথেও নামে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কারণ তাদের ভেতরে কাজ করে স্বর্গ পাওয়ার লোভ এবং ঈশ্বর বিরোধী হওয়ার ভয়। দীর্ঘকাল একটি পাখিকে খাঁচাবন্দী করে রাখার পর তাকে মুক্ত করে দিলেও সে আর উড়তে চায় না, মেনে নেয় বন্দী জীবন, কেননা বন্দী জীবনই ভালো এটাই তার পক্ষে মেনে নেয়া স্বাভাবিক। এই শ্রেণির নারীদের আমরা পছন্দ করি, প্রতিটি পুরুষ মনে মনে একেই কামনা করি; এদের কে আমরা চিহ্নিত করতে পারি ইভ অথবা হাওয়াপন্থি বলে। ঈশ্বর যাকে সৃষ্টি করার আগে পুনর্বার ঝুঁকি নিতে চাননি, তাই ঘুমন্ত এডামের বুকের পাঁজরের হাড় থেকে তৈরি করলেন এমন এক নারী যে এডামের প্রিয় অনুগত, সেবাদাসী, প্রিয়তমা স্ত্রী। নিষিদ্ধ গন্ধম ভক্ষণের অপরাধে আদম যখন অভিশপ্ত হলেন, স্বর্গচ্যুত হয়ে মেনে নিতে হলো দুঃখ-কষ্টের মর্ত জীবন, তখনও হাওয়া আদমকে বলতে পারলেন, 'এই নির্বাসনে আমার কোনও দুঃখ নেই । কারণ তুমি যেখানে থাকবে সেটাই হবে আমার কাছে স্বর্গ।'
কিন্তু আজ আর আমরা সেই প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থার ভেতর নেই, তথাপি রীতিনীতিগুলো বহাল তাবিয়তে আছে, কেননা সমাজের পতি কিংবা প্রভুও বহাল তাবিয়তেই আছেন। শিকার-সংগ্রাহক যুগে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভেতর নারীদের কুক্ষিগত করার প্রবণতা ছিলো না, ধারণা করা হয় এর কারণ ছিলো তখনকার সমাজে পুঁজিকে পুঞ্জীভূত করার মতো বোধবুদ্ধি মানুষের না থাকা। আবার এমন যুক্তিও অনেক গবেষক উপস্থাপন করেছেন যে, শিকার-সংগ্রাহক যুগে কোন নারীর একই গোষ্ঠীর বহু পুরুষের সাথে মিলিত হবার এবং সন্তান উৎপাদন করায় কোন বাধা ছিলো না। নারীরা এমন ধারণ পোষণ করতো যে, এক পুরুষের বীর্যে সন্তান জন্ম হয় না; বহু পুরুষের সাথে মিলিত হওয়ার ফলে সন্তান শক্তসামর্থ হয়, হয় দক্ষ শিকারি। এবং সন্তানও প্রতিপালন করতো সকলে মিলেই, কারণ কে কার সন্তান এটা বোঝা ছিলো অসম্ভব। যদিও এই মত তর্ক সাপেক্ষ।
আমরা জানি কৃষিনির্ভর সমাজ বাস্তবতায় এসে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভেতর পুঁজি পুঞ্জীভূত করার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলত সেই পুঁজি কুক্ষিগত করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ে অন্য আর এক মানব গোষ্ঠী; বাঁধে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। কিন্তু তার আগেও মানুষ নিরীহ প্রাণি রূপে মোটেও পরিচিত ছিলো না, ছিলো খুনেস্বভাবী। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই মারামারিতে সেই সময়কার মানুষের তিরিশ থেকে পয়তিরিশ শতাংশ মারা যেত, যার ভেতর পুরুষের সংখ্যাই থাকত বেশি। ফলশ্রুত এক পুরুষের ভাগে জুটত একাধিক নারী, আর একাধিক সন্তানের জন্ম দেয়ার গুরুদায়িত্ব এসে পড়ত নারীর কাঁধে, শুধু কি তাই, সেই সন্তান প্রতিপালনই হয়ে উঠল নারীর প্রধানতম কাজ। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না এই কারণেই নারীকে ঘরমুখো হতে হয়েছিলো, যার সূত্রপাত ঘটেছিলো কৃষিভিত্তিক সমাজে, এই সময় থেকেই মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসতি গাড়তে শুরু করে।
গ্রিক নাট্যকার সফ্লোকিসের রাজা ইডিপাস নাটকে আমরা দেখতে পাই নিয়তিতাড়িত হয়ে ইডিপাস তাঁর পিতাকে হত্যা করে এবং সেই রাজ্যের রাজা হলে, অধিকার সূত্রে বিয়ে করেন রানীকে; যে কিনা তাঁর জন্মদাত্রী। এই ট্রেজেডি থেকে আমারা দুটো ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাই যেমন, রাজ্য দখলের সাথে রানীকে দখল করা ছিলো সেই সময়ে একটা সাধারণ ব্যাপার---রাজ্যবাসীরও তাতে কোন দ্বিমত থাকত না। আর হচ্ছে নিজের মায়ের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন; মানে ধারণা করতে পারি যে, মায়ের সাথে যৌন সম্পর্ক এর আগেও সংঘটিত হয়েছিলো, নাহলে এই অভিজ্ঞতা মানুষ কোথায় পেল যে এই কাজ নিকৃষ্ট এবং পাপ! পরবর্তিতে ফ্রয়েডের মনস্তত্ত্বে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয়েছে। অথবা গ্রিক নাট্যকার ইস্কাইলাসের আগামেমন নাটকেও আমরা প্রত্যক্ষ করি যে আগামেমন দশ বছর যুদ্ধ শেষে যখন ট্রয়কে পরাজিত করে ফিরে আসে, তখন তিনি সাথে নিয়ে আসেন ট্রয়ের রানী এবং রক্ষিতাদের। ফলত আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে গ্রিক পুরাণে নারীকে দেখানো হয়েছে সম্পত্তি কিংবা পণ্য রূপে; বোধকরি নারীও যে একটি স্বতন্ত্র ও মানবিক সত্তার অধিকারী সেটা বোঝার ক্ষমতা তখনকার মানুষের ছিলো না।
গোটা বিশ্বজুড়ে ডাইনি হত্যার ইতিহাসও প্রমাণ করে নারী আধিপত্যের বিরুদ্ধে পুরুষ ছিলো খড়্গহস্ত। কেননা ডাইনিদের জীবনাচার ছিলো সেই সময়ের পুরুষতান্ত্রিক ধর্মীয় জীবনাচারের থেকে ভিন্ন, সুতরাং কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে হোক আর ভয়েই হোক বার হাজার ডাইনিকে পুড়িয়ে মারার বিচার কিন্তু হয়েছিলো ধর্মীয় আইনের মতেই----যে ধর্মের ওপর আছে পুরুষের একছত্র আধিপত্য। মার্ক্সীয় নারীবাদীতত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুঁজিকেন্দ্রিক সমাজবাস্তবতা থেকেই নারীকে কুক্ষিগত করার প্রবণতা দেখা দেয় মানুষের ভেতর; এই কারণে মার্কস বলেছেন, পুঁজিবাদ ভেঙে দিলেই নারীরা মুক্ত হবে, ফিরে পাবে তাদের হারানো অধিকার। কিন্তু রেডিক্যাল নারীবাদীরা বলেন মাতৃত্বের মতো মহত্ব চাপিয়ে দিয়েই ‍‍‍নারীকে বশীভূত করেছে পুরুষ, ফলত তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাতৃত্ব থেকে মুক্ত হতে চায়। এক্ষেত্রে লিবারেল নারীবাদীরা অনেক বেশি সহনশীল, তারা বিভিন্নভাবে পুরুষের নিপীড়নের কথাও ভাবে, তাই তারা পুরুষের সাথে সহাবস্থানের মাধ্যমেই নিজ অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
এইসব তাত্ত্বিক আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার বহু আগে থেকেই বহু নারী পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধাচারণ করেছিলেন, কিন্তু তা বিচ্ছিন্নভাবে। যার ভেতর অন্যতম হচ্ছে লিলিথ (যদিও লিলিথ চরিত্রটি পুরাণ কেন্দ্রিক, কাল্পনিক) তথাপি এই চরিত্রটিকে বিশ্লেষণ করলেই নারীবাদীদের প্রথম ভিত্তিটুকু স্থাপিত হয়ে যায়। হয়ত সেকারণেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক লিলিথ চরিত্রটিকে বিনির্মাণ করেছেন, ছবি এঁকেছেন মাইকেল এঞ্জেলোর মতো চিত্রকর। এছাড়া ইহুদিদের একটি ম্যাগাজিনের নাম রাখা হয়েছে লিলিথ-এর নাম অনুসারে। দুস্থ মহিলাদের সাহায্যের জন্য নির্মিত একটি কনসার্ট ও স্তন ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট Lilith Fair নামে পরিচিত। সুতরাং পুরুষতন্ত্রের অভিশাপে অস্তিত্ব হারানো লিলিথের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধানের মাধ্যমেই পুনর্জীবিত হতে পারে নারীর মানবিক অধিকার ও সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিগতভাবে এমনটাই আমি মনে করি।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
অধ্যাপক-কবি-সমালোচক উত্তম দত্ত এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন লেখক ও উইকিপিডিয়া।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জাদুবাস্তববাদ-এর বিভ্রান্তিসমূহ

'ফ্লোরেন্সের একজন নাবিক, আন্তোনিও পিপাফেত্তা, মাগেলানের প্রথম বিশ্বভ্রমণে তিনি ছিলেন তাঁর সহযোগী। আমাদের মধ্যরেখাসংলগ্ন আমেরিকা মহাদেশ দ...